যাচাই শেষ ৩ লাখ ৫৪ হাজার জনের, তবুও শুরু হচ্ছে না রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

March 30, 2026

prothomupdate

যাচাই শেষ ৩ লাখ ৫৪ হাজার জনের, তবুও শুরু হচ্ছে না রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

জাতীয় সংসদে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সাম্প্রতিক অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। সোমবার (৩০ মার্চ) সংসদ অধিবেশনে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলমান যাচাই প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও এখনো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কার্যকরভাবে শুরু করা সম্ভব হয়নি।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৮ লাখ ২৯ হাজারের বেশি মানুষের তথ্য মিয়ানমারের কাছে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৭৫১ জনের পরিচয় যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। যাচাই শেষ হওয়া এই ব্যক্তিদের মধ্যে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৬৪ জনকে মিয়ানমার তাদের পূর্ববর্তী বাসিন্দা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবুও নানা জটিলতা ও বাস্তব পরিস্থিতির কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এখনো শুরু করা যাচ্ছে না।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী অতীতের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে পূর্বেও সফলভাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হয়েছে। ১৯৭৮ সালে প্রায় ২ লাখ এবং ১৯৯২ সালে প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার ভিত্তিতে নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছিল। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতেও সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কার্যকর সমাধান খুঁজে পাওয়া যাবে।

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিসরে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে বলেও জানান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনকে এই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এছাড়া ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট কক্সবাজারে আয়োজিত একটি সংলাপে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কীভাবে বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য করা যায়, সে বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন। এসব আলোচনা ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান ‘গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার’ মামলাটি বাংলাদেশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ২০২৬ সালের ১২ থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত মামলার মূল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই মামলার ব্যয় নির্বাহে গাম্বিয়াকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ, যা দেশটির কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে।

এছাড়াও জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনগুলোতে রোহিঙ্গা সংকট গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) আসন্ন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকেও এ বিষয়ে পৃথক দুটি প্রস্তাব গৃহীত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান কেবল নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মাধ্যমেই সম্ভব। তবে এ লক্ষ্যে বাস্তব অগ্রগতি অর্জনের জন্য মিয়ানমারের আন্তরিকতা, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য।

সোর্স: ইত্তেফাক

Leave a Comment