মেয়ের বিরল রোগ নিয়ে প্রথমবার মুখ খুললেন Varun Dhawan

March 29, 2026

prothomupdate

মেয়ের বিরল রোগ নিয়ে প্রথমবার মুখ খুললেন Varun Dhawan

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা Varun Dhawan প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে জানিয়েছেন তার ছোট মেয়ে লারার একটি জটিল শারীরিক সমস্যার কথা। ব্যক্তিগত জীবনের এই সংবেদনশীল বিষয়টি এতদিন আড়ালেই রেখেছিলেন তিনি। তবে সম্প্রতি এক পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি তার মেয়ের স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও সেই কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।

জানা যায়, ২০২৪ সালের ৩ জুন জন্ম নেওয়া লারা জন্মের পর থেকেই ‘Developmental Dysplasia of the Hip’ (ডিডিএইচ) নামের একটি বিরল রোগে আক্রান্ত। এটি এমন একটি অবস্থা, যেখানে শিশুর নিতম্বের জয়েন্ট সঠিকভাবে গঠিত হয় না বা তার স্বাভাবিক অবস্থানে থাকে না। ফলে শিশুর চলাফেরা, দাঁড়ানো কিংবা ভবিষ্যতে হাঁটার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে বরুণ জানান, এই রোগের কারণে অনেক সময় শিশুর দুই পায়ের দৈর্ঘ্যে পার্থক্য দেখা দেয় এবং হাঁটার সময় ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। চিকিৎসা দেরিতে শুরু হলে ভবিষ্যতে আর্থ্রাইটিস বা মেরুদণ্ডের সমস্যার ঝুঁকিও বাড়ে। তাই সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত জরুরি।

অভিনেতা আরও বলেন, তাদের মেয়ের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি শুরুতে উদ্বেগজনক হলেও সৌভাগ্যক্রমে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়নি। চিকিৎসকদের পরামর্শে বিশেষ পদ্ধতিতে তার হিপ জয়েন্ট ঠিক অবস্থানে আনা হয়েছে। তবে এই চিকিৎসা প্রক্রিয়া মোটেও সহজ ছিল না। লারাকে দীর্ঘ সময় ‘স্পাইকা কাস্ট’ নামের বিশেষ ধরনের প্লাস্টার পরে থাকতে হয়েছে, যা তার শরীরের বড় একটি অংশ ঢেকে রাখত। প্রায় আড়াই মাস ধরে এমন অবস্থায় থাকতে হওয়ায় পরিবারের জন্য সময়টি ছিল অত্যন্ত কষ্টকর ও মানসিকভাবে চ্যালেঞ্জিং।

এই কঠিন অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বরুণ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি জানান, একজন বাবা হিসেবে সন্তানের কষ্ট দেখা খুবই বেদনাদায়ক। তবে পরিবার ও চিকিৎসকদের সহায়তায় তারা ধীরে ধীরে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন। বর্তমানে লারা আগের চেয়ে অনেক ভালো আছে এবং ধীরে ধীরে সুস্থতার দিকে এগোচ্ছে।

নিজের ব্যক্তিগত জীবনের এই বিষয়টি সামনে আনার পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য রয়েছে বলে জানান বরুণ। তিনি বলেন, অনেকেই এই রোগ সম্পর্কে জানেন না বা গুরুত্ব দেন না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসা দেরিতে শুরু হয়, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই অভিভাবকদের সচেতন করতে এবং সময়মতো চিকিৎসার গুরুত্ব বোঝাতে তিনি এই অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন।

তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, শিশুর ছোটখাটো শারীরিক সমস্যা হলেও সেটিকে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। কারণ, প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে অনেক জটিল রোগই সহজে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

এদিকে ব্যক্তিগত জীবনের এই কঠিন সময় পার করেও পেশাগত ক্ষেত্রে বেশ সফল সময় কাটাচ্ছেন বরুণ। সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত তার সিনেমা ‘Border 2’ দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সিনেমাটিতে তার অভিনয়ও প্রশংসিত হয়েছে এবং এটি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

সব মিলিয়ে, একজন তারকা হলেও একজন বাবা হিসেবে সন্তানের জন্য তার সংগ্রাম ও দায়িত্ববোধের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বরুণ ধাওয়ান। ভবিষ্যতে এই অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বই লেখার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তিনি, যা অন্য অভিভাবকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে।

সোর্স: দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Comment