মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা দিন দিন আরও তীব্র হয়ে উঠছে। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাতের জেরে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের ধারাবাহিকতায় ইরান কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ করে দিয়েছে, যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হয়। এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করেছে এবং অনেক দেশ জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যদি দ্রুত হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য খুলে না দেওয়া হয়, তাহলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক হামলা চালানো হবে। বিশেষ করে দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, তেলক্ষেত্র এবং অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।
সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, পরিস্থিতি সমাধানে কিছু অগ্রগতি হলেও দ্রুত কোনো চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এতদিন যেসব স্থাপনায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলা চালানো হয়নি, সেগুলোকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেওয়া হতে পারে।
এছাড়া ট্রাম্প তার বক্তব্যে অতীতের ঘটনাও টেনে আনেন। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ইরানের শাসনব্যবস্থা বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং এতে বহু মার্কিন সেনা ও নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে। তার মতে, সম্ভাব্য এই হামলা সেইসব ঘটনার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই বিবেচিত হবে।
অন্যদিকে, ইরানও পাল্টা অবস্থানে অনড় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে গোটা অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে এবং সংঘাতের মাত্রা ক্রমেই বাড়ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি নির্ভর শিল্প ও উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশ্বনেতারা পরিস্থিতি শান্ত করতে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত এখন এক জটিল ও সংকটপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও সামরিক উত্তেজনা ঘিরে যেকোনো সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি এখন মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির দিকেই নিবদ্ধ রয়েছে।
সোর্স: বাংলাদেশ প্রতিদিন


