পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ভবানীপুরে দিনভর নাটকীয় পরিস্থিতির পর শেষদিকে ভোটের হিসাব বদলে যায়। শুরুতে এগিয়ে থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ব্যবধান হারাতে থাকেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিকেলের পর থেকে ধীরে ধীরে শক্ত অবস্থানে চলে আসেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী, যা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা আরও বাড়ে।
দক্ষিণ কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে এই আসনের ভোটগণনা অনুষ্ঠিত হয়। গণনার প্রথম দিকের ট্রেন্ডে মমতার পক্ষে ফলাফল আসতে থাকায় তৃণমূল শিবিরে আশাবাদ দেখা যায়। কিন্তু কয়েক দফা গণনা এগোতেই চিত্র পাল্টাতে শুরু করে। প্রতিটি রাউন্ডের শেষে দেখা যায়, শুভেন্দু ধীরে ধীরে ব্যবধান কমিয়ে আনছেন এবং একপর্যায়ে তিনি এগিয়েও যান।
এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে গণনাকেন্দ্রের বাইরে ও ভেতরে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এক পর্যায়ে দুই প্রধান প্রার্থীই গণনাকেন্দ্রে উপস্থিত হন। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, সেখানে প্রবেশের সময় তাদের মোবাইল ফোন জমা রাখতে হয়, যাতে গণনাপ্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব না পড়ে।
সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও নাটকীয় মোড় নেয়। ভোটগণনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষে দেখা যায়, শুভেন্দু অধিকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চেয়ে এগিয়ে গেছেন। স্থানীয় সময় রাত পৌনে আটটার দিকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, প্রায় তিন হাজার ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন শুভেন্দু। এই অবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গণনাকেন্দ্র ত্যাগ করেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শুভেন্দু অধিকারী কেবল ভবানীপুরেই নয়, নন্দীগ্রাম আসনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেই নন্দীগ্রামেই তিনি বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছেন বলে জানা গেছে। প্রায় দশ হাজার ভোটের ব্যবধানে তিনি প্রতিপক্ষকে হারিয়েছেন। এর ফলে তার রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নন্দীগ্রাম কেন্দ্রটি আগের নির্বাচনেও ছিল বহুল আলোচিত। সেখানে সরাসরি মুখোমুখি লড়াই হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে। সেই নির্বাচনে খুব অল্প ব্যবধানে পরাজিত হন মমতা। ফলে এবারের নির্বাচনে ভবানীপুর আসনটি তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।
এই নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধুমাত্র ভবানীপুর আসন থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে এখানে ফলাফল তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদি তিনি এই আসনে পরাজিত হন, তাহলে বিধানসভায় সদস্য হিসেবে প্রবেশ করা তার পক্ষে সম্ভব হবে না, যা রাজ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে ভবানীপুরের ভোটগণনা দিনভর উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি অগ্রগতি এবং নাটকীয় মোড়ের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ফলাফল কী দাঁড়ায়, সেটিই এখন নজরে সবার।


