পবিত্র ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় চিড়িয়াখানা পরিণত হয় এক আনন্দমুখর মিলনমেলায়। ঈদের দিন সকাল থেকেই সেখানে ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। দিন শেষে হিসাব করে দেখা যায়, প্রায় ৮০ হাজার মানুষ চিড়িয়াখানায় ভ্রমণে এসেছেন। সন্ধ্যার দিকে চিড়িয়াখানার পরিচালক রফিকুল ইসলাম তালুকদার এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, ঈদের দিনে মানুষের উপস্থিতি ছিল প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পরদিন দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। প্রতি বছর ঈদে চিড়িয়াখানায় ভিড় বাড়লেও এবার উপস্থিতির সংখ্যা বিশেষভাবে চোখে পড়ার মতো।
জাতীয় চিড়িয়াখানাটি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্র। এখানে প্রায় ১৩৭ প্রজাতির ৩ হাজার ৫০০-এর বেশি প্রাণী রয়েছে। বাঘ, সিংহ, হাতি, জলহস্তী, হায়েনা, ক্যাঙারু, অজগর, ঘড়িয়াল থেকে শুরু করে উটপাখি বিভিন্ন প্রাণী কাছ থেকে দেখার সুযোগ থাকায় শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক সবাই সমানভাবে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, দর্শনার্থীরা দল বেঁধে চিড়িয়াখানার ভেতরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুবান্ধব বা প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাতে এসেছেন। অনেকেই প্রাণীদের খাঁচার সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, কেউ সেলফি নিচ্ছেন, আবার কেউ ভিডিও ধারণ করছেন। প্রাকৃতিক পরিবেশে বসে গল্প-আড্ডায় মেতে ওঠার দৃশ্যও ছিল চোখে পড়ার মতো। সব মিলিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে মানুষ যেন একত্রিত হয়েছেন এই চিড়িয়াখানায়।
সাভারের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ওমর ফারুক পরিবার নিয়ে এসেছিলেন ঘুরতে। জিরাফের খাঁচার পাশে বসে কিছুটা বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তিনি। তিনি জানান, গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরে হলেও এবার তারা ঈদে গ্রামে যাননি। তাঁর চার বছর বয়সী ছেলে আল ইমরান আগে কখনো চিড়িয়াখানায় আসেনি। তাই তাকে নতুন অভিজ্ঞতা দিতে ঈদের দিনটিকে বেছে নিয়েছেন।
ছোট্ট আল ইমরান সরাসরি বাঘ, সিংহ, জিরাফসহ নানা প্রাণী দেখে ভীষণ আনন্দিত। আগে মোবাইলে এসব প্রাণী দেখলেও বাস্তবে দেখে তার উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
এদিকে, হ্যাপি আক্তার নামের এক মা তার চার বছর বয়সী মেয়েকে গাধা দেখাতে বেশ ব্যস্ত ছিলেন। মেয়েকে কোলে তুলে ধরে প্রাণীটি দেখাচ্ছিলেন তিনি। তিনি জানান, মিরপুরের বাসা থেকে পরিবারের সাত সদস্য একসঙ্গে ঘুরতে এসেছেন। গাধা পরিচিত প্রাণী হলেও সরাসরি দেখার সুযোগ খুব একটা হয় না বলেই মেয়েকে আবার দেখাতে নিয়ে এসেছেন।
অন্যদিকে, মুন্সিগঞ্জ থেকে আসা চার তরুণ রিফাত আহমেদ, মিলন, শিপন ও রাকিবুল বন্ধুদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে চিড়িয়াখানায় এসেছেন। তারা জানান, সবাই ভিন্ন জায়গায় থাকলেও ঈদ উপলক্ষে একত্র হয়েছেন। এই বিশেষ দিনে একসঙ্গে ঘুরতে পেরে তারা খুবই আনন্দিত।
সব মিলিয়ে ঈদের দিন জাতীয় চিড়িয়াখানা যেন হয়ে উঠেছিল আনন্দ, উৎসব আর মিলনের এক প্রাণবন্ত কেন্দ্র। পরিবার-পরিজন, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাতে রাজধানীবাসীর অন্যতম পছন্দের জায়গা হিসেবে আবারও নিজের অবস্থান প্রমাণ করেছে এই চিড়িয়াখানা।
সোর্স : প্রথম আলো


