মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে আবারও অবস্থান পরিবর্তন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানকে উপেক্ষা করে এই প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেটি আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে পরিচিত এই পরিকল্পনাটি ছিল মূলত আটকে পড়া তেলবাহী ট্যাংকারসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ করে দেওয়া।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য পূর্ণাঙ্গ চুক্তির দিকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। সেই কারণেই পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল না করে কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ তৈরি করতে এই সাময়িক স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার যে গতি তৈরি হয়েছে, তা বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তবে এই অবস্থানের সঙ্গে তার আগের বক্তব্যের স্পষ্ট বৈপরীত্য রয়েছে। এর আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, যদি ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কোনো জাহাজে হামলা চালায়, তাহলে দেশটিকে ‘পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হবে’। এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল এবং উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।
‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিতের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে থাকা জাহাজগুলোকে উদ্ধার এবং নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেছিলেন। সেই পরিকল্পনারই অংশ ছিল এই প্রকল্প, যা সোমবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে তা থামিয়ে দেওয়া হলো।
হরমুজ প্রণালী বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে প্রণালীটি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। এতে করে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক চাপও বেড়েছে।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় জানিয়েছেন, পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়নি, তবুও ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ আপাতত বন্ধ রেখে দেখা হবে, আলোচনার মাধ্যমে একটি চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয় কি না। তার মতে, সামরিক পদক্ষেপের চেয়ে কূটনৈতিক পথই এই মুহূর্তে বেশি কার্যকর হতে পারে।
অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তৎক্ষণাৎ কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সময় অনুযায়ী তখন ভোর হওয়ায় আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য আসেনি। তবে অতীতে হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন হুমকির জবাবে ইরান দৃঢ় অবস্থানই দেখিয়েছে এবং নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।
সব মিলিয়ে, পরিস্থিতি এখন এক ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। একদিকে সামরিক প্রস্তুতি ও কড়া ভাষার হুমকি, অন্যদিকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা—এই দুইয়ের মাঝে দোদুল্যমান অবস্থানই বর্তমানে দৃশ্যমান। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েকদিনের কূটনৈতিক অগ্রগতি নির্ধারণ করবে এই সংকট কোন দিকে মোড় নেয়।
সোর্স: বাংলাদেশ প্রতিদিন


