বাংলাদেশের তরুণ ব্যাটার শামীম হোসেনের ঝড়ো ইনিংস এখন নিউজিল্যান্ড দলের জন্য এক ধরনের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তার ছোট কিন্তু কার্যকরী ৩১ রানের ইনিংসই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। মাত্র ১৩ বলে খেলা এই ইনিংসটি পরিসংখ্যানের দিক থেকে বড় না হলেও, ম্যাচ পরিস্থিতিতে ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শেষের দিকে তার আগ্রাসী ব্যাটিং বাংলাদেশের জয়ের পথ সহজ করে দেয়।
এই ইনিংসে শামীম তিনটি চার ও দুটি ছক্কা হাঁকান, যা তার আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়েরই প্রতিফলন। ১৬তম ওভারে নাথান স্মিথকে মোকাবিলা করে খেলা একটি ‘নো-লুক’ শট ইতোমধ্যেই ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। এমন সৃজনশীল ও নির্ভীক ব্যাটিং তাকে আলাদা করে তুলেছে। ফলে সিরিজের শেষ ম্যাচে তাকে কীভাবে থামানো যায়, সেটিই এখন নিউজিল্যান্ড দলের মূল চিন্তার জায়গা।
সংবাদ সম্মেলনে নিউজিল্যান্ডের অলরাউন্ডার ডিন ফক্সক্রফট শামীমের পারফরম্যান্স নিয়ে স্পষ্টভাবে তার দলের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শামীম ডেথ ওভারে অসাধারণ ব্যাটিং করে বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন। দলের অনেক খেলোয়াড়ই এখনো তার বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেননি, তাই পরবর্তী ম্যাচে ভালো পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।
এদিকে, সিরিজের দ্বিতীয় টি টোয়েন্টি ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়ায় এখন শেষ ম্যাচটিই নির্ধারণ করবে সিরিজের ভাগ্য। নিউজিল্যান্ড এই ম্যাচ জিতে সিরিজে সমতা আনতে চায়। ফক্সক্রফট জানান, দলটি ইতিবাচক মানসিকতায় রয়েছে এবং প্রথম ম্যাচ থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের ঘাটতিগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, প্রথম ম্যাচে তাদের কিছু ভালো দিক ছিল, তবে কিছু জায়গায় নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে জয় হাতছাড়া হয়েছে। বিশেষ করে বোলিং ও ব্যাটিংয়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তারা নিজেদের সেরাটা দিতে পারেনি। এসব ভুল শুধরে নিতে তারা অনুশীলনে মনোযোগ দিচ্ছে এবং শেষ ম্যাচে উন্নত পারফরম্যান্স দেখাতে প্রস্তুত হচ্ছে।
প্রথম টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ড ১৮২ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দাঁড় করায়। দলের হয়ে ওপেনিং জুটিতে কেটেন ক্লার্ক ও ডেন ক্লিভার দারুণ সূচনা এনে দেন। টিম রবিনসন দ্রুত আউট হলেও, দ্বিতীয় উইকেটে এই দুই ব্যাটার ৮৮ রানের জুটি গড়ে দলের ভিত মজবুত করেন। দুজনেই সমান ৫১ রান করে দলের স্কোরকে এগিয়ে নেন। তাদের এমন পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশ করেন ফক্সক্রফট।
তিনি বলেন, পাওয়ার প্লেতে এই দুই ব্যাটারের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দেয়। তাদের ৩৬০ ডিগ্রি ব্যাটিংয়ের দক্ষতা দলকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার আশা করছেন তিনি।
বাংলাদেশ সফরে অংশ নিতে পেরে ফক্সক্রফট বেশ উচ্ছ্বসিত। তিনি জানান, বিভিন্ন দেশের কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা তাকে সমৃদ্ধ করছে। এই সফরে বিভিন্ন ভূমিকায় খেলার সুযোগ পেয়েছেন এবং নিজের পারফরম্যান্সেও তিনি সন্তুষ্ট। শেষ ম্যাচে দলের জন্য আরও ভালো কিছু করতে পারার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এই অলরাউন্ডার।
সব মিলিয়ে, শেষ ম্যাচকে ঘিরে দুই দলের মধ্যেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে শামীম হোসেনের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স যে নিউজিল্যান্ডের পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে, তা বলাই যায়।
সোর্স: বাংলাদেশ প্রতিদিন


