মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে ইসরায়েলের ডিমোনা শহরে সংঘটিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত এই শহরটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানেই ইসরায়েলের বহুল আলোচিত পারমাণবিক স্থাপনা অবস্থিত। সম্প্রতি ইরানের পক্ষ থেকে চালানো একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যে একটি সরাসরি এই সংবেদনশীল স্থাপনাকে লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার গভীর রাতে শুরু হওয়া এই হামলা কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে এবং এতে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়। ইসরায়েলের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বলয় ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছে যায়। শুধু পারমাণবিক কেন্দ্রই নয়, ডিমোনা শহরের আশপাশের এলাকাতেও একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
এই হামলায় এখন পর্যন্ত শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার তথ্য জানা গেছে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। বিশেষ করে শিশুদের আহত হওয়ার ঘটনাটি ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছে। ১০ ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশুর শরীরে ক্ষেপণাস্ত্রের স্প্লিন্টার ঢুকে গুরুতর আঘাতের সৃষ্টি করেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট করে।
হামলার পরপরই ইরান এর দায় স্বীকার করে জানিয়েছে, এটি ছিল তাদের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় সাম্প্রতিক হামলার প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ। উল্লেখ্য, ইরানের ওই স্থাপনায় হামলার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করা হলেও তেলআবিব সরকার তা অস্বীকার করে আসছে এবং বরং যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোপন অভিযানের দিকে ইঙ্গিত করেছে।
এদিকে ডিমোনায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। একাধিকবার সাইরেন বাজার পরও কীভাবে ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করা গেল না, তা নিয়ে সামরিক বাহিনীর উচ্চপর্যায়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার এমন ফাঁকফোকর ভবিষ্যতে আরও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইসরায়েল সরকার দ্রুত কিছু কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দেশটির ‘হোম ফ্রন্ট কমান্ড’ দক্ষিণাঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে এবং নেগেভ, লাখিশ ও ডেড সি সংলগ্ন এলাকায় জরুরি বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। আগামী কয়েকদিন এসব অঞ্চলের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৫০ জনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যাতে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হামলা শুধু একটি সামরিক সংঘর্ষ নয়, বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা ইরান ইসরায়েল দ্বন্দ্বকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ডিমোনা হামলার ঘটনাটি নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা এখন বিশ্ববাসীর গভীর নজরে রয়েছে।
সোর্স: আমাদের সময়


