পেঁয়াজ-রসুন ছাড়া খাবার, মুঠোফোনে নিষেধাজ্ঞা

May 6, 2026

prothomupdate

পেঁয়াজ-রসুন ছাড়া খাবার, মুঠোফোনে নিষেধাজ্ঞা

বিশ্বজুড়ে ফ্যাশনপ্রেমী ও তারকাদের কাছে সবচেয়ে প্রতীক্ষিত আয়োজনগুলোর একটি ‘মেট গালা’। প্রতি বছরের মতো ২০২৬ সালেও মে মাসের প্রথম সোমবার নিউইয়র্কে বসেছিল এই জমকালো আসর। শিল্প, সংস্কৃতি আর ফ্যাশনের এক অনন্য সংমিশ্রণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি শুধু পোশাক প্রদর্শনের জায়গা নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে সৃজনশীলতা আর সামাজিক বার্তার এক বড় মঞ্চ।

নিউইয়র্কের বিখ্যাত মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্টে অনুষ্ঠিত এবারের আয়োজনে বেশ কিছু নতুনত্ব লক্ষ্য করা গেছে। অতিথিদের অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ করতে খাবার, নিয়ম-কানুন ও আয়োজনের বিভিন্ন দিকেই আনা হয়েছে পরিবর্তন। ভারত থেকেও বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ এই আয়োজনে অংশ নেন, যাদের মধ্যে ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা করণ জোহর, উদ্যোক্তা ইশা আম্বানি, গায়িকা ও ব্যবসায়ী অনন্যা বিড়লা, জয়পুরের রাজপরিবারের সদস্য গৌরবী কুমারী ও সাওয়াই পদ্মনাভ সিংহ, সমাজসেবী সুধা রেড্ডি, ফ্যাশন ডিজাইনার মনীশ মালহোত্রা এবং নাতাশা পুনাওয়ালা।

এবারের মেট গালার মূল থিম ছিল ‘কস্টিউম আর্ট’, আর রেড কার্পেটের ড্রেস কোড নির্ধারণ করা হয় ‘ফ্যাশন অব আর্ট’। বসন্তকালীন প্রদর্শনীকে সামনে রেখে এই থিম বেছে নেওয়া হয়, যেখানে মানবদেহকে এক ধরনের জীবন্ত ক্যানভাস হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হয়েছে। পোশাকের মাধ্যমে শিল্পের বহুমাত্রিক রূপ তুলে ধরাই ছিল এর মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি প্রদর্শনীতে ভাস্কর্য গ্যালারি সংযোজন করে প্রকৃতি ও শিল্পের মেলবন্ধনও দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়।

তবে এই জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে অংশ নিতে খরচও ছিল চোখ কপালে তোলার মতো। ২০২৬ সালে একটি টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয় প্রায় ১ লাখ মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। শুধু তাই নয়, একটি টেবিল সংরক্ষণ করতে ব্যয় করতে হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার। সাধারণত এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী তারকারা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্যাশন হাউসের ডিজাইনার পোশাক পরে উপস্থিত হন, যা পুরো আয়োজনকে আরও বিলাসবহুল করে তোলে।

এবারের আয়োজনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি ছিল খাবারের মেনু। অতিথিদের জন্য এমন সব খাবার পরিবেশন করা হয়, যেখানে পেঁয়াজ ও রসুন ব্যবহার করা হয়নি। একই সঙ্গে খেয়াল রাখা হয়েছে যেন কোনো খাবার পোশাকে দাগ না ফেলে। কারণ, অংশগ্রহণকারীদের পরিধেয় পোশাকগুলো অত্যন্ত দামী ও সংবেদনশীল হয়ে থাকে।

আরেকটি কঠোর নিয়ম ছিল ‘নো ফোন’ নীতি। ২০১৫ সাল থেকে চালু থাকা এই নিয়ম অনুযায়ী, অনুষ্ঠান চলাকালে মোবাইল ফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ফলে অতিথিরা না পারেন সামাজিক মাধ্যমে ছবি বা ভিডিও শেয়ার করতে, না পারেন ডিনারের সময় সেলফি তুলতে। যদিও অতীতে কিছু তারকা গোপনে ছবি তুলে তা প্রকাশ করেছেন, তবে আয়োজকেরা এ ধরনের আচরণ নিরুৎসাহিত করেন।

ধূমপানের ক্ষেত্রেও রয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা। শুধু সাধারণ সিগারেট নয়, ই-সিগারেটও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মূলত জাদুঘরের মূল্যবান শিল্পকর্ম ও ডিজাইনার পোশাককে সুরক্ষিত রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে আয়োজন শুরুর আগেই কিছু বিতর্কও সামনে আসে। ব্যবসায়ী জেফ বেজোস ও তার স্ত্রী লরেন সানচেজকে সহসভাপতি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। নিউইয়র্কের বিভিন্ন জায়গায় তাদের অংশগ্রহণের বিরোধিতা করে পোস্টারও দেখা যায়। সমালোচকদের মতে, এই আয়োজন ধীরে ধীরে শিল্পের চেয়ে ধনীদের প্রভাব প্রদর্শনের প্ল্যাটফর্মে পরিণত হচ্ছে।

সব বিতর্ক ছাপিয়ে ৪ মে অনুষ্ঠিত মেট গালা ২০২৬ আবারও প্রমাণ করেছে ফ্যাশন কেবল পোশাক নয়, এটি একটি শক্তিশালী ভাষা, যার মাধ্যমে শিল্প, সংস্কৃতি ও সমাজের নানা বার্তা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা সম্ভব।

সোর্স: প্রথম আলো

Leave a Comment