জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকলে অনেক সময়ই ফুটবলারদের ব্যক্তিগত আনন্দ-উৎসব ত্যাগ করতে হয়। বিশেষ করে ঈদের মতো পারিবারিক উৎসবের সময়টা তাদের জন্য হয়ে ওঠে দায়িত্ব আর পেশাদারিত্বের এক কঠিন পরীক্ষা। তবে একসঙ্গে দেশের তিনটি আলাদা দল ঈদের দিন ভিন্ন ভিন্ন দেশে অবস্থান করছে এমন ঘটনা খুব কমই দেখা যায়। এবারের ঈদে বাংলাদেশের ফুটবলে ঘটেছে ঠিক এমনই এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য।
ঈদের সকালেই বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল ভিয়েতনামে পৌঁছেছে। একই দিনে দুপুরের দিকে থাইল্যান্ডে পৌঁছায় অনূর্ধ্ব-২০ নারী দল। অন্যদিকে, ছেলেদের অনূর্ধ্ব-২০ দল অবস্থান নিয়েছে মালদ্বীপে। সব মিলিয়ে প্রায় ৬৮ জন ফুটবলার এবার ঈদ কাটাচ্ছেন দেশের বাইরে, প্রিয়জনদের থেকে দূরে থেকে।
তবে দূরত্ব সত্ত্বেও মনোবল হারাননি কেউই। বিদেশের মাটিতে থেকেও তারা দেশের মানুষের জন্য পাঠিয়েছেন ঈদের শুভেচ্ছা। জাতীয় দলের মিডফিল্ডার শমিত সোম ভিডিও বার্তায় বলেন, সবাই যেন আনন্দের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করেন এই প্রত্যাশাই তাঁর। অন্যদিকে ডিফেন্ডার তারিক কাজী মনে করেন, জাতীয় দলই এখন তাঁর আরেকটি পরিবার। তাই পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকলেও দেশের হয়ে খেলতে পারা তাঁর কাছে গর্বের বিষয়।
নারী অনূর্ধ্ব-২০ দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকারও একইভাবে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। থাইল্যান্ড সফর নিয়ে তিনি আশাবাদী এবং জানিয়েছেন, আসন্ন প্রতিযোগিতায় ভালো ফল করাই তাদের মূল লক্ষ্য। ঈদের আনন্দের সঙ্গে দায়িত্ববোধকে মিলিয়ে নিতে পারাটাই তাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
মূলত সামনে থাকা আন্তর্জাতিক সূচির কারণে এই তিনটি দলকে প্রায় একই সময়ে দেশের বাইরে যেতে হয়েছে। জাতীয় দলের জন্য সামনে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ—এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের শেষ লড়াই, যেখানে প্রতিপক্ষ সিঙ্গাপুর। এই ম্যাচকে সামনে রেখে প্রস্তুতি আরও জোরদার করতে ভিয়েতনামের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচও খেলবে দলটি, যা তাদের প্রস্তুতির বড় অংশ।
সব মিলিয়ে, এবারের ঈদ বাংলাদেশের ফুটবলারদের জন্য একটু ভিন্ন স্বাদের। পরিবার, আত্মীয়স্বজন আর পরিচিত পরিবেশ থেকে দূরে থেকেও তারা দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। এই ত্যাগ, এই নিষ্ঠা—সবকিছু মিলিয়েই ফুটবলারদের ঈদ হয়ে উঠেছে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা, যেখানে আনন্দের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দায়িত্ব আর দেশের প্রতি ভালোবাসা।
দেশ ছাড়ার আগে দলের প্রধান কোচ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ঢাকায় প্রস্তুতি বেশ সন্তোষজনক ছিল। খেলোয়াড়দের অনুশীলনে ছিল উদ্যম আর মনোযোগ। এখন সেই প্রস্তুতিকে মাঠে বাস্তবায়ন করাই মূল লক্ষ্য। ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচগুলোকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন।


