শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল করে সংসদে বিল পাস

April 26, 2026

prothomupdate

শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল করে সংসদে বিল পাস

সংসদ সদস্যদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে বহাল থাকা শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির বিশেষ সুবিধা অবশেষে বাতিল করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল রবিবার জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিমণ্ডলে নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে এখন থেকে কোনো সংসদ সদস্য আর আগের মতো করমুক্তভাবে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য গাড়ি আমদানি করতে পারবেন না।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদে ‘দ্য মেম্বারস অব পার্লামেন্ট (রেম্যুনিউরেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস) অর্ডার, ১৯৭৩’ সংশোধনের লক্ষ্যে বিলটি উত্থাপন করেন। বিলটি উত্থাপনের পর এর ওপর কোনো ধরনের সংশোধনী প্রস্তাব আনা হয়নি এবং খুব সংক্ষিপ্ত প্রক্রিয়ায়, কোনো আলোচনা ছাড়াই এটি পাস হয়ে যায়। ফলে বিদ্যমান আইনের ৩সি ধারা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সংশোধনী বিল অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় সংসদে এটি উত্থাপন ও পাসের মধ্য দিয়ে বিষয়টি চূড়ান্ত রূপ পেল। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকার ব্যয়সংকোচন এবং সুবিধা-সুবিধার ক্ষেত্রে সমতা আনার দিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে।

বাতিল হওয়া ৩সি ধারায় বলা ছিল, একজন সংসদ সদস্য তার মেয়াদকালে শুল্কমুক্তভাবে একটি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস আমদানি করতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে উন্নয়ন সারচার্জ ও আমদানি পারমিট ফি প্রযোজ্য ছিল। এছাড়া, একজন সদস্য তার সর্বশেষ আমদানির তারিখ থেকে পাঁচ বছর পার হলে পুনরায় আরেকটি গাড়ি আমদানির সুযোগ পেতেন। এই সুবিধা দীর্ঘদিন ধরে বহাল থাকলেও নানা সময়ে এটি নিয়ে সমালোচনা হয়েছে।

বিশেষ করে, সাধারণ জনগণের তুলনায় জনপ্রতিনিধিদের জন্য এমন বিশেষ সুবিধা থাকা কতটা যৌক্তিক—সে প্রশ্ন বহুবার উঠেছে। দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা, রাজস্ব আয়ের প্রয়োজনীয়তা এবং বৈষম্য কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় এনে শেষ পর্যন্ত এই সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তারা নির্বাচিত হলে শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধা গ্রহণ করবেন না। ভোটের পর ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলটি ঘোষণা দেয়, তাদের কোনো সদস্যই এই সুবিধা নেবেন না।

অন্যদিকে, বিরোধীদল থেকেও নির্বাচনের আগে অনুরূপ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তারা শুধু শুল্কমুক্ত গাড়ি নয়, সরকারি প্লট গ্রহণ থেকেও বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছিল। ফলে সব মিলিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এক ধরনের নৈতিক অবস্থান তৈরি হয়, যা শেষ পর্যন্ত আইনগত পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত জনগণের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দেবে এবং জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যতে সরকারি সুবিধা পুনর্বিবেচনার ক্ষেত্রে একটি নজির হয়ে থাকবে।

সোর্স: বাংলাদেশ প্রতিদিন

Leave a Comment