ঈদ আনন্দ মুহূর্তে বিষাদ—ব্রহ্মপুত্রে ভাসমান সেতু দুর্ঘটনায় ভাই-বোনসহ ৪ জনের মৃত্যু

March 21, 2026

prothomupdate

ঈদ আনন্দ মুহূর্তে বিষাদ—ব্রহ্মপুত্রে ভাসমান সেতু দুর্ঘটনায় ভাই-বোনসহ ৪ জনের মৃত্যু

ঈদের আনন্দঘন দিনে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা, যা মুহূর্তেই উৎসবের আমেজকে শোকে পরিণত করেছে। ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত একটি ভাসমান সেতুতে অতিরিক্ত মানুষের চাপের কারণে সেটি উল্টে গিয়ে পানিতে পড়ে মৃত্যু হয়েছে সহোদর ভাই বোনসহ চারজনের।

শনিবার বিকেলের দিকে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার সামনে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঈদ উপলক্ষে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য মানুষ নদীর চরে ঘুরতে এবং বিনোদনের উদ্দেশ্যে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। নদীর ওপর ড্রাম দিয়ে তৈরি অস্থায়ী ভাসমান সেতুটি ছিল চরে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। তবে ঈদের দিন হওয়ায় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি মানুষ একসঙ্গে সেতুতে উঠলে সেটি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছে একই পরিবারের দুই শিশু ঝালুরচর এলাকার শের আলীর মেয়ে খাদিজা (১২) এবং ছেলে আব্দুল মোতালেব (৬)। এছাড়া ডাকাতিয়াপাড়া এলাকার জয়নাল মিয়ার মেয়ে মায়ামনি (১০) ও গামারিয়া এলাকার কিশোর আবির (১৬) এ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে। তাদের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বিকেলের দিকে সেতুটিতে মানুষের চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকে। অনেকেই একসঙ্গে সেতু পার হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। হঠাৎ করেই অতিরিক্ত ভার সহ্য করতে না পেরে সেতুটির একটি অংশ কাত হয়ে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে সেটি উল্টে যায়। এতে করে সেতুর ওপর থাকা অনেকেই সরাসরি নদীতে পড়ে যান। কেউ কেউ সাঁতার কেটে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও কয়েকজন পানির স্রোতে তলিয়ে যান এবং নিখোঁজ হয়ে পড়েন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল। তারা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বেশ কিছুক্ষণ তল্লাশির পর পাঁচজনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্য একজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এই দুর্ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, সেতুটিতে একসঙ্গে এত মানুষের ওঠা-নামার ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল অপ্রতুল। বিশেষ করে ঈদের মতো উৎসবের দিনে অতিরিক্ত ভিড় সামাল দিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও তারা দাবি করেন।

ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

ঈদের আনন্দঘন মুহূর্তে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা শুধু নিহতদের পরিবার নয়, পুরো এলাকাকে শোকাহত করেছে। উৎসবের দিনে এমন প্রাণহানির ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিল—যেকোনো জনসমাগমপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি।

সোর্স: বাংলাদেশ প্রতিদিন

Leave a Comment