আসন্ন মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে নতুন করে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে শিক্ষা কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার প্রতিটি পরীক্ষা কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকল দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য ১১ দফা বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে কেন্দ্র সচিব ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছে এই নির্দেশনাগুলো পাঠানো হয়। এর আগে ২৫ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এই নির্দেশনাগুলো প্রণয়ন করা হয়েছে।
জানা গেছে, আগামী ২১ এপ্রিল থেকে সারাদেশে একযোগে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম, প্রশ্নফাঁস বা নকলের সুযোগ বন্ধ করতে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। এজন্য মাঠপর্যায়ের সকল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি নির্ধারিত নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশনার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে কার্যকর সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন নিশ্চিত করা। যেসব কেন্দ্রে ক্যামেরা আগে থেকেই রয়েছে কিন্তু অকেজো, সেগুলো দ্রুত মেরামত করে সচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ করতে হবে এবং প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তা সরবরাহ করতে হবে।
পরীক্ষার সময় নির্ভুলভাবে মেনে চলার জন্য প্রতিটি কক্ষে কাঁটাওয়ালা ঘড়ি টাঙানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া মোবাইল ফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কেন্দ্র সচিব ছাড়া অন্য কোনো শিক্ষক বা পরীক্ষার্থী পরীক্ষার হলে মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন না। নকল প্রতিরোধে পরীক্ষার্থীদের প্রবেশের আগে দেহ তল্লাশির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছাত্রীদের ক্ষেত্রে এই দায়িত্ব পালন করবেন মহিলা শিক্ষকরা।
পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রধান ফটকে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা টাঙিয়ে রাখতে বলা হয়েছে, যাতে সবাই নিয়ম সম্পর্কে আগে থেকেই অবগত থাকে। একইসঙ্গে প্রতিটি কেন্দ্রের পরিচ্ছন্নতা, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা বোর্ড থেকে দেওয়া সকল নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে কেন্দ্র সচিবদের বিশেষভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতির কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই কঠোর ব্যবস্থা পরীক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করবে।
সোর্স: বাংলাদেশ প্রতিদিন


