গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হলেই ঠেলে ঠেলে যেতে হয়’

March 29, 2026

prothomupdate

‘গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হলেই ঠেলে ঠেলে যেতে হয়’

দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকট ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল সরবরাহ নেই। ফলে ব্যক্তিগত গাড়িচালক থেকে শুরু করে মোটরসাইকেল আরোহীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। অনেকেই এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ঘুরে বেড়িয়েও তেল পাচ্ছেন না, যা পরিস্থিতিকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।

রোববার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় অবস্থিত একটি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে এমনই এক বাস্তব চিত্র দেখা যায়। সেখানে মিজান নামের এক মোটরসাইকেল চালকের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, পথে তার বাইকের তেল ফুরিয়ে যায় এবং এরপর আর কোনো পাম্পে তেল না পেয়ে তাকে চরম বিপাকে পড়তে হয়েছে। তার ভাষায়, দেশে তেলের ঘাটতি নেই বলে সরকার দাবি করলেও বাস্তবে সড়কে বের হলেই তেলের জন্য হাহাকার করতে হচ্ছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গাড়ি নিয়ে বের হলেই কখন যে ঠেলে নিতে হবে, সেই অনিশ্চয়তায় থাকতে হচ্ছে।

সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, জেলার বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনেই তেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে। কিছু স্টেশনে সীমিত পরিমাণে তেল সরবরাহ থাকলেও তা রেশনিং পদ্ধতিতে দেওয়া হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। ফলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেক চালক খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে, পাম্পে তেল না পাওয়া গেলেও খোলা বাজারে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষ দ্বিগুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন—একদিকে তেলের অভাব, অন্যদিকে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হওয়া।

এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান নামের আরেক মোটরসাইকেল চালক। তিনি কাঁচপুর থেকে তার বৃদ্ধ বাবাকে সঙ্গে নিয়ে মুন্সীগঞ্জে যাচ্ছিলেন। পথে তেল শেষ হয়ে গেলে তারা বাধ্য হয়ে মোটরসাইকেল ঠেলে একটি ফিলিং স্টেশনে পৌঁছান। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখেন ‘তেল নেই’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলছে। প্রচণ্ড রোদে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ক্লান্ত হয়ে তারা রাস্তার পাশে একটি গাছের নিচে বসে পড়েন।

মুস্তাফিজুর হতাশা প্রকাশ করে বলেন, অনেক কষ্ট করে স্টেশনে পৌঁছেও তেল না পেয়ে এখন কী করবেন বুঝতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতি শুধু তার নয়, প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ একই দুর্ভোগের মুখোমুখি হচ্ছেন।

ফিলিং স্টেশনের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে তাদের স্টেশনে কোনো তেল সরবরাহ হয়নি। ডিপোতে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তারা তেল আনতে পারেননি। এমনকি রোববার সকালে পাঠানো একটি সরবরাহ গাড়িও দুপুর পর্যন্ত ফিরে আসেনি। তারা জানান, তেল সরবরাহ পাওয়া গেলে পুনরায় বিক্রি শুরু করা হবে।

এদিকে তেল বিক্রি বন্ধ থাকায় স্টেশনগুলোর কর্মীরাও অলস সময় কাটাচ্ছেন। কেউ সংবাদপত্র পড়ছেন, কেউবা সহকর্মীদের সঙ্গে গল্প করছেন। কিন্তু তাদের এই অবসর সময়ের বিপরীতে বাড়ছে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ।

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অল্প সময়ের মধ্যেই বেশ কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক তেল নিতে এসে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন। এতে করে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে।

তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, ডিপো থেকে নিয়মিত সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা চলছে। নির্ধারিত বরাদ্দ অনুযায়ী প্রতিদিন তেল দেওয়া হচ্ছে বলেও তারা দাবি করেন। তবে বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে, যা দ্রুত সমাধান না হলে জনজীবনে আরও বড় ধরনের অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে পারে।

সোর্স: বিডি নিউজ২৪

Leave a Comment