সংবিধান সংশোধনে ১৭ সদস্যের কমিটি গঠনের প্রস্তাব সরকারি দলের

April 29, 2026

prothomupdate

সংবিধান সংশোধনে ১৭ সদস্যের কমিটি গঠনের প্রস্তাব সরকারি দলের

দেশের সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব তুলে ধরেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানিয়েছেন, সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পর্যালোচনা ও সুপারিশ প্রণয়নের জন্য ১৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হবে।

বুধবার বিকেলে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, দেশে সংবিধান নিয়ে যে আলোচনা ও বিতর্ক সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে, সেটিকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চায় সরকার। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক পরিসরে সংবিধান নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চারই একটি অংশ। এই চর্চাকে সংসদের ভেতরেও সুসংগঠিতভাবে এগিয়ে নিতে এই বিশেষ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আইনমন্ত্রী জানান, সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ২৬৬ ধারা অনুযায়ী এই কমিটি গঠন করা হবে। ইতোমধ্যে সরকারি দলের পক্ষ থেকে ১২ জন সদস্যের একটি প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এই তালিকায় শুধু সরকারি দলের সদস্যরাই নন, বরং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে কমিটিটি বহুমাত্রিক মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে পারে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত তালিকায় প্রধান বিরোধী দল বিএনপির সদস্যদের পাশাপাশি গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রতিনিধিদেরও রাখা হয়েছে। এছাড়া স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদেরও অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে করে সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ আলোচনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আইনমন্ত্রী আরও জানান, প্রস্তাবিত ১২ সদস্যের মধ্যে বিএনপি থেকে সাতজন এবং অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্রদের মধ্য থেকে পাঁচজনকে রাখা হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ ১৭ সদস্যের কমিটি গঠনের জন্য বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও পাঁচজন সদস্যের নাম প্রয়োজন। তিনি বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাদের পক্ষ থেকে দ্রুত নাম প্রস্তাব করা হলে কমিটি গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে।

তিনি বলেন, বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্বের হিসাব করলে প্রায় ২৬ শতাংশ আসে। সেই অনুপাতে পাঁচজন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কমিটিতে বিরোধী দলের যথাযথ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।

আইনমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত সময়ের মধ্যেই এই কমিটি গঠন করা সম্ভব হবে এবং এর মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত কাজ এগিয়ে নেওয়া যাবে। পাশাপাশি তিনি “জুলাই সনদ”কে সামনে রেখে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের কথাও উল্লেখ করেন।

সরকারের এই উদ্যোগকে দেশের সাংবিধানিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন বিরোধী দলের অংশগ্রহণের ওপরই নির্ভর করছে কমিটি গঠনের পরবর্তী অগ্রগতি।

সোর্স: বাংলাদেশ প্রতিদিন।

Leave a Comment