ঢাকার উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। একটি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থীর মধ্যে ঘটে যাওয়া ‘অপ্রীতিকর’ ঘটনাকে ঘিরে শুরু হওয়া এই বিতর্ক ধীরে ধীরে বড় আকার ধারণ করে এবং বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১৬ এপ্রিল। ওই দিন দশম শ্রেণির একটি ক্লাসে এক শিক্ষার্থী পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষকের কাছে বাংলা বিষয়ের একটি প্রশ্নের ব্যাখ্যা জানতে চায়। শিক্ষক তাকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে শিক্ষার্থী একই প্রশ্ন নিয়ে আবারও শিক্ষকের কাছে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শিক্ষক ও উপস্থিত শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী শিক্ষকের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষক শিক্ষার্থীকে থাপ্পড় দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর শিক্ষক শিক্ষার্থীর অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং বিষয়টি সরাসরি আলোচনা করার জন্য স্কুলে আসতে অনুরোধ জানান। তবে পরবর্তী সময়ে শিক্ষককে স্কুল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অভিভাবকের বাসায় যেতে বলা হয়। শিক্ষক দাবি করেন, তিনি ভেবেছিলেন সেখানে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা হবে, কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি অপমানজনক পরিস্থিতির মুখে পড়েন এবং মানসিকভাবে হেনস্তার শিকার হন। তার সঙ্গে আরেকজন শিক্ষকও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়।
এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। তারা ২৩ এপ্রিল বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে এবং বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে অভিযোগ জানানোর উদ্যোগ নেয়। শিক্ষার্থীরা সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতির কাছে একটি স্মারকলিপিও জমা দেয়। এতে তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও শিক্ষকের প্রতি করা আচরণের বিচার দাবি করে।
অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট অভিভাবকের পক্ষ থেকে রমনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, কোচিংয়ে না যাওয়ার কারণে ওই শিক্ষক শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে আঘাত করেছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকি পাওয়ার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শিক্ষক এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো ধরনের বাণিজ্যিক কোচিং পরিচালনা করেন না এবং বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠার পর ওই শিক্ষার্থীকে অন্য একটি স্কুলে ভর্তি করানো হয়েছে। তার অভিভাবক সন্তানের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া জিডিতে পুরো ঘটনার ধারাবাহিকতা, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং শিক্ষার্থীকে অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তারা জিডির বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তদন্ত করা হবে। তবে এখনো বিস্তারিত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানা মতামত ও তথ্য ঘুরে বেড়াচ্ছে, যার কিছু সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সব মিলিয়ে একটি শ্রেণিকক্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিরোধ এখন বড় ধরনের আলোচনায় রূপ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য ও অভিযোগ পর্যালোচনা করে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
সোর্স: প্রথম আলো


