ইতালিতে বসবাসরত দুই প্রবাসী বাংলাদেশি ভাইয়ের পারিবারিক বিরোধ শেষ পর্যন্ত মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে এনেছে। মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা এই দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব এক পর্যায়ে সহিংসতায় রূপ নেয়, যার ফল হিসেবে ছোট ভাইকে প্রাণ দিতে হয়েছে বড় ভাইয়ের হাতে। ঘটনাটি ইতালির লেচ্চে শহরে ঘটেছে এবং এটি প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
নিহত নয়ন ফকির এবং অভিযুক্ত বড় ভাই হুমায়ুন ফকির—দুজনেই টঙ্গীবাড়ীর সোনারং এলাকার বাসিন্দা। তারা জীবিকার তাগিদে ইতালিতে পাড়ি জমান এবং সেখানেই বসবাস করছিলেন। তবে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কিছুদিন ধরেই মতবিরোধ চলছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। সেই বিরোধই শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত স্থানীয় সময় প্রায় ৮টার দিকে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। প্রথমে এটি সাধারণ তর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, বড় ভাই হুমায়ুন ফকির হঠাৎ করেই উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছোট ভাই নয়ন ফকিরের ওপর হামলা চালান। পরপর কয়েকটি আঘাতে গুরুতর জখম হন নয়ন, এবং ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
এই হত্যাকাণ্ডের পর যা ঘটেছে, তা আরও বেশি শোকাবহ ও আতঙ্কজনক। অভিযোগ রয়েছে, ছোট ভাইকে হত্যার পর হুমায়ুন ফকির নিজেই পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কলে যোগাযোগ করেন। সেই কলেই তিনি নিহত নয়নের রক্তাক্ত দেহ দেখান এবং নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেন। প্রবাসে ঘটে যাওয়া এই নির্মম ঘটনার এমন সরাসরি দৃশ্য দেখে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তাদের কান্না ও শোক মুহূর্তেই পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার খবর দ্রুত ইতালির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পৌঁছে যায়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে এবং অভিযুক্ত হুমায়ুন ফকিরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। বর্তমানে তিনি ইতালির পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার ক্ষেত্রে সচেতনতা ও সহনশীলতার ওপর জোর দিচ্ছেন। একই সঙ্গে প্রবাসে মানসিক চাপ ও পারিবারিক টানাপোড়েন কীভাবে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, সেই বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এদিকে নিহত নয়ন ফকিরের পরিবার তার মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছে। পরিবারের সদস্যরা প্রিয়জনের শেষ বিদায় নিজ দেশে সম্পন্ন করতে চান। এমন নির্মম ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং সবাই হতবাক হয়ে এই ঘটনার নৃশংসতা নিয়ে আলোচনা করছেন।
সোর্স: বাংলাদেশ প্রতিদিন


