ধর্মীয় বিতর্ক, মামলা আর বয়কটের ডাক—চাপে ‘ধুরন্ধর ২’, তবু বক্স অফিসে দাপট

March 29, 2026

prothomupdate

ধর্মীয় বিতর্ক, মামলা আর বয়কটের ডাক—চাপে ‘ধুরন্ধর ২’, তবু বক্স অফিসে দাপট

মুক্তির শুরুতে যেন একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিল ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ যা দর্শকের কাছে বেশি পরিচিত ‘ধুরন্ধর ২’ নামে। প্রথম কয়েক দিনেই রেকর্ড ভাঙা আয়, প্রেক্ষাগৃহে উপচে পড়া ভিড় সব মিলিয়ে ছবিটি ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কিন্তু এক সপ্তাহ পার হতেই দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করেছে। আয় এখনো শক্তিশালী থাকলেও প্রতিদিনের সংগ্রহে ধীরে ধীরে কমার প্রবণতা স্পষ্ট। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানা বিতর্ক—যার প্রভাব ছবির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

মুক্তির আগেই প্রিভিউ শো থেকে প্রায় ৪৩ কোটি রুপি আয় করে আলোচনায় আসে ছবিটি। প্রথম দিনে ১০২ কোটির বেশি আয় করে এটি প্রধান অভিনেতার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ওপেনিং এনে দেয়। দ্বিতীয় দিনে কিছুটা কমে গেলেও তৃতীয় ও চতুর্থ দিনে আবারও আয় ঊর্ধ্বমুখী হয়, এমনকি চতুর্থ দিনে সর্বোচ্চ দৈনিক সংগ্রহ ছুঁয়ে ফেলে। তবে সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে স্বাভাবিকভাবেই ‘উইকডে ড্রপ’ শুরু হয়। পঞ্চম দিন থেকে সপ্তম দিন পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে আয় কমতে থাকে, যা নিয়ে এখন বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

প্রথম সপ্তাহ শেষে ভারতের বাজারে ছবিটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬২৫ কোটির বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারেও এটি শক্ত অবস্থানে রয়েছে ওভারসিজ আয় ২৬০ কোটির বেশি। সব মিলিয়ে মাত্র সাত দিনেই বিশ্বব্যাপী আয় ১০০০ কোটি রুপি অতিক্রম করেছে, যা যেকোনো চলচ্চিত্রের জন্য বড় অর্জন। দ্রুততম সময়ে হাজার কোটির ক্লাবে ঢুকে ছবিটি নতুন রেকর্ডের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।

তবে বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি ছবিটি এখন নানা বিতর্কের মুখে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল সব জায়গায় ছবিটি নিয়ে আলোচনা চলছে। কিছু দর্শক ও সমালোচকের অভিযোগ, সিনেমাটিতে রাজনৈতিক বার্তা অতিরঞ্জিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে এবং এটি বিশেষ একটি পক্ষের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার চেষ্টা করেছে। অন্যদিকে, তামিলনাড়ুতে একটি গোষ্ঠী ছবিটি নিষিদ্ধের দাবিতে আদালতে মামলা করেছে। এছাড়া শিখ ধর্মাবলম্বীদের একটি অংশের অভিযোগ ছবির কিছু দৃশ্য তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে।

এই বিতর্ক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় একাংশ দর্শক ছবিটি বয়কটের আহ্বান জানিয়েছে। তবে মজার বিষয় হলো, অন্য একটি অংশ এই নেতিবাচক প্রচারণাকেই ছবির জনপ্রিয়তা বাড়ানোর উপকরণ হিসেবে দেখছে। বিশ্লেষকদের মতে, বড় বাজেটের সিনেমার ক্ষেত্রে বিতর্ক অনেক সময় দ্বিমুখী প্রভাব ফেলে। শুরুতে এটি কৌতূহল তৈরি করে এবং দর্শক হলে টানে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ছবির স্থায়িত্ব নির্ভর করে কনটেন্টের ওপর।

‘ধুরন্ধর ২’-এর ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। প্রথম দিকে প্রচারণা, তারকা শক্তি এবং বিতর্ক মিলিয়ে বিশাল দর্শকসমাগম হয়েছে। কিন্তু এখন দর্শকের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। কেউ ছবির অ্যাকশন, নির্মাণশৈলী ও ভিজ্যুয়াল স্কেল প্রশংসা করছেন, আবার কেউ গল্পের গতি ও দ্বিতীয়ার্ধ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে কিছু দৃশ্যে রাজনৈতিক বক্তব্য সরাসরি হয়ে যাওয়ায় সমালোচনা বাড়ছে।

এদিকে একই সময়ে মুক্তি পাওয়া ‘উস্তাদ ভগত সিং’ ছবিটি বক্স অফিসে তেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেনি। পর্যাপ্ত শো না পাওয়া, দুর্বল প্রচারণা এবং দর্শকের আগ্রহ কম থাকার কারণে ছবিটি আয় ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে বাজারে কার্যত একক আধিপত্য বজায় রেখেছে ‘ধুরন্ধর ২’।

এখন মূল প্রশ্ন—দ্বিতীয় সপ্তাহে ছবিটির পারফরম্যান্স কেমন হবে? সাধারণত বড় ছবিগুলো দ্বিতীয় সপ্তাহের সপ্তাহান্তে আবার গতি পায়। তবে চলমান বিতর্ক এবং দর্শকের বিভক্ত প্রতিক্রিয়া এই গতি প্রভাবিত করতে পারে। সব মিলিয়ে বলা যায়, আয় কমলেও ‘ধুরন্ধর ২’ এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে, কিন্তু সামনে এর পথ কতটা মসৃণ হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে দর্শকের চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়ার ওপর।

সোর্স: প্রথম আলো

Leave a Comment