ভারতের প্রখ্যাত সাহিত্যিক Arundhati Roy সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নিয়ে সরব হয়ে আবারও আলোচনায় এসেছেন। রাজধানী New Delhi-এর কামানি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সাহিত্য অনুষ্ঠানে তিনি ইরান-সংকট নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। মূলত তাঁর নতুন বই Mother Mary Comes to Me নিয়ে আলোচনা হলেও, অনুষ্ঠানের শেষভাগে তিনি বৈশ্বিক রাজনীতি ও যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান।
অনুষ্ঠানে অরুন্ধতী রায়ের সঙ্গে আলোচনায় ছিলেন Neelanjana Roy। তবে বইয়ের আলোচনার গণ্ডি ছাড়িয়ে দ্রুতই কথোপকথন মোড় নেয় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের দিকে। বক্তব্যের শুরুতেই অরুন্ধতী রায় বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে চুপ থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। বিশেষ করে Tehran, Isfahan কিংবা Beirut-এর মতো শহরগুলো যখন যুদ্ধের আগুনে জ্বলছে, তখন সাহিত্য আলোচনা একা যথেষ্ট নয়।
তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপকে ‘অবৈধ ও উসকানিহীন’ আখ্যা দেন। তাঁর ভাষায়, গাজায় চলমান সহিংসতার ধারাবাহিকতাই এখন ইরানে বিস্তৃত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, একই কৌশল বারবার প্রয়োগ করা হচ্ছে নিরীহ মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকায় হামলা চালানো হচ্ছে, তারপর দায় এড়ানোর চেষ্টা চলছে।
অরুন্ধতী রায় সতর্ক করে বলেন, এই সংঘাত কেবল আঞ্চলিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। তাঁর মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের সংকটে রূপ নিতে পারে। পারমাণবিক ঝুঁকি ছাড়াও তিনি অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেন। ইতিহাসের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যারা একসময় Atomic bombings of Hiroshima and Nagasaki ঘটিয়েছিল, তারাই আবারও প্রাচীন সভ্যতার ওপর হামলার পথে এগোচ্ছে এটি বিশ্ববাসীর জন্য উদ্বেগজনক।
নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, তিনি নিঃশর্তভাবে ইরানের পাশে আছেন। তাঁর মতে, কোনো দেশের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের অধিকার সেই দেশের জনগণেরই থাকা উচিত। বাইরের শক্তি দ্বারা চাপিয়ে দেওয়া পরিবর্তন কখনোই ন্যায়সংগত নয়।
এ সময় তিনি ভারতের সরকারের ভূমিকাকেও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ভারত এখন স্বাধীন অবস্থান নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি বলেন, একসময় অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হলেও ভারতের আত্মমর্যাদা ছিল, কিন্তু এখন সেই গর্ব ও সাহস অনেকটাই হারিয়ে গেছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সমঝোতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
তিনি Narendra Modi এর কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েও সমালোচনা করেন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-এর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump এর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে ভারতকে প্রায়ই অবমূল্যায়নের মুখে পড়তে হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে তিনি ভারতীয় শ্রমিকদের ইসরায়েলে পাঠানোর বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, এসব সিদ্ধান্ত দেশের সাধারণ মানুষের মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসে।
এছাড়া নিজের বই প্রসঙ্গে অরুন্ধতী রায় বলেন, এটি সরাসরি আত্মজীবনী নয়, বরং একজন লেখকের স্মৃতিচারণ। তাঁর মা Mary Roy-এর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের জটিলতা বইটিতে ফুটে উঠেছে। মেরি রায়ের ব্যক্তিত্বের দ্বৈত দিক একদিকে কঠোরতা, অন্যদিকে নারীর অধিকার রক্ষায় সংগ্রামী ভূমিকা এই বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অনুষ্ঠানে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, প্রযুক্তির এই অগ্রগতি মানুষের স্বাভাবিক চিন্তাশক্তিকে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। পাশাপাশি ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা ও সামাজিক পরিবর্তন নিয়েও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সবশেষে তাঁর বক্তব্যে উপস্থিত দর্শকেরা দাঁড়িয়ে সমর্থন জানান। প্রতিক্রিয়ায় অরুন্ধতী রায় ‘বিজয়ের চিহ্ন’ দেখিয়ে বলেন, দিল্লিতে প্রতিরোধের চেতনা এখনো বেঁচে আছে।


