বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তার মধ্যে নতুন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই কৌশলগত রুট দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও সম্ভাব্য সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলায় এই উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে। ফলে এই রুটে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তা সরাসরি বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে টাস্কফোর্স গঠন করে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সমন্বয় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটির মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক এক বিবৃতিতে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করলে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক মানবিক সংকটকে তীব্র করে তুলতে পারে। বিশেষ করে খাদ্য নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহের ওপর এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ হতে পারে।
এই টাস্কফোর্সের নেতৃত্ব দেবেন হোর্হে মোরেইরা দা সিল্ভা, যিনি জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার নেতৃত্বে গঠিত দলটি বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্র, আঞ্চলিক অংশীদার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে একটি কার্যকর কৌশল নির্ধারণ করবে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, নতুন এই উদ্যোগটি পূর্ববর্তী কিছু সফল প্রকল্পের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেবে। বিশেষ করে ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভ এবং গাজা অঞ্চলে পরিচালিত ইউএন ২৭২০ মেকানিজম থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হবে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সংকটকালীন সময়ে খাদ্য ও জরুরি সরবরাহ বজায় রাখার ক্ষেত্রে কার্যকর সমাধান পাওয়া গিয়েছিল।
এদিকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের চাপে পড়তে পারে। সারের সরবরাহ ব্যাহত হওয়া, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং জ্বালানির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার ফলে উন্নয়নশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে খাদ্যের দাম আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ইতোমধ্যেই সতর্ক করেছে যে, পরিস্থিতি যদি দীর্ঘ সময় ধরে অব্যাহত থাকে, তাহলে বিশ্বের বহু অঞ্চলে কোটি কোটি মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে পড়তে পারে। তাদের মতে, সংঘাত যদি জুন মাস পর্যন্ত গড়ায়, তাহলে বৈশ্বিক ক্ষুধা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
জাতিসংঘ আশা প্রকাশ করেছে, এই টাস্কফোর্স গঠনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়বে এবং একটি স্থিতিশীল বাণিজ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি মানবিক সংকট মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পথও সুগম হবে। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই উদ্যোগে কতটা সক্রিয় সমর্থন দেয় এবং তা বাস্তবায়নে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখে।
সোর্স: কালের কন্ঠ।


