ইরান সংঘাতে জড়ানোর সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দিল ফ্রান্স

May 2, 2026

prothomupdate

ইরান সংঘাতে জড়ানোর সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দিল ফ্রান্স

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে যে সংঘাত তৈরি হয়েছে, সেখানে সরাসরি সামরিকভাবে জড়ানোর সম্ভাবনা একেবারেই নাকচ করে দিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির সরকার পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা কোনো পক্ষ হয়ে যুদ্ধে অংশ নিতে আগ্রহী নয় এবং কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষেই অবস্থান করছে।

শুক্রবার ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, সংঘাত শুরুর পর থেকেই ফ্রান্স সামরিক পদক্ষেপ থেকে নিজেকে দূরে রেখেছে এবং সেই অবস্থান এখনও বহাল রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধের উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয় এবং আন্তর্জাতিক আইনের নানা দিক এতে উপেক্ষিত হয়েছে। ফলে এমন একটি অভিযানে ফ্রান্সের অংশগ্রহণের প্রশ্নই ওঠে না।

বারো আরও উল্লেখ করেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়ও। তিনি সতর্ক করে বলেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা আরও বাড়বে, বিশেষ করে জ্বালানি বাজারে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে ইতোমধ্যে।

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে জানান, আলোচনার মাধ্যমেই এই সংকট নিরসন সম্ভব। তার মতে, শক্তি প্রয়োগের বদলে সংলাপই হতে পারে স্থায়ী সমাধানের পথ। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান, যাতে উত্তেজনা আরও না বাড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

এদিকে, ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীর বিষয়টিও আলোচনায় আসে। এই প্রণালী বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এর স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছে ফ্রান্স। বারো জানান, সেখানে নৌচলাচল স্বাভাবিক রাখতে একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো পক্ষ যদি এই গুরুত্বপূর্ণ পথ বন্ধ করে দেয় বা সেখানে কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করে, তা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়, যার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। এই সংঘাতের প্রভাবে হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল ব্যাহত হয় এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়।

দীর্ঘ সংঘর্ষের পর প্রায় ৩৯ দিন পর দুই পক্ষ সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়, যা এপ্রিলের শুরুতে কার্যকর হয়। এরপর আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হলেও প্রথম দফার সংলাপ ফলপ্রসূ হয়নি। তবুও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু করার চেষ্টা চলছে।

তবে সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী, ইরান এখনো নতুন করে আলোচনায় বসতে রাজি হয়নি। এমন প্রেক্ষাপটে ফ্রান্সের অবস্থান আরও স্পষ্ট তারা কোনোভাবেই যুদ্ধে জড়াবে না এবং আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক সমাধানের পথেই এগোতে চায়।

সোর্স: বাংলাদেশ প্রতিদিন

Leave a Comment